অন্তঃসত্ত্বা নারী বিএনপি নেতা সাংবাদিকের পিতাসহ আরও ৪ জনের মৃত্যু


চট্টগ্রামে এবার আইসিইউ সাপোর্ট না পেয়ে মারা গেলেন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী। তাঁর নাম  ফাতেমা আকতার মুক্তা (৩০)।  দুই সন্তানের জননী ও অন্তঃসত্ত্বা এই নারীর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে মঙ্গলবার প্রথমে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সিট খালি না থাকায় তাকে নেওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। এখানে অক্সিজেন পাওয়া গেলেও মলেনি আইসিইউ। আইসিইউর অভাবে চমেক হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট এলাকার বাসিন্দা মুক্তার।

মুক্তার স্বামী তৌহিদুল আনোয়ার জানান, ‘আমার স্ত্রী মুক্তার মঙ্গলবার শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে সকাল ১০টার দিকে মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার ডাক্তাররা  আমার স্ত্রীকে পরীক্ষা করে দেখেন তার আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে। কিন্তু তাদের আইসিইউ খানি না থাকায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে অক্সিজেন পাওয়া গেলেও আইসিইউ পাওয়া যায়নি। আইসিইউর অভাবে মুক্তা নয় মাসের পেটের সন্তানসহ   মারা গেল।

একইভাবে চট্টগ্রামে বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে ঠাঁয় না পেয়ে  মারা গেছেন নগর  বিএনপির সহ-সভাপতি লায়ন মো. কামাল উদ্দিন, নালা পাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রীতি বিকাশ দত্ত (৬২) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের চৌধুরীর বাবা জসিম উদ্দিন চৌধুরী।

বুধবার রাতে শ্বাস কষ্ট বেড়ে গেলে লায়ন মো. কামাল উদ্দিনকে নগরীর পার্কভিউ, ম্যাক্স ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেয়া হয়। এসব হাসপাতাল সিট না থাকাসহ নানা অজুহাতে ভর্তি নেয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।। মা ও শিশু হাসপাতালে অক্সেজন পেলেও আইসিইউ পান নি।  এর পর ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে অক্সিজেন দেওয়া হয়। তিনটি আইসিইউ বেডের সবক’টি পূর্ণ থাকায় কামাল উদ্দিনকে আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া যায়নি। আইসিইউ সাপোর্ট না পাওয়ার  কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

নগরীর সদরঘাট থানাধীন দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রীতি বিকাশ দত্ত (৬০)। বুধবার রাত ৮টায় হঠাৎ বুকে ব্যাথা  উঠলে  ছেলে অভিজিৎ বাবাকে   মা-মনি হাসপাতাল, ম্যাক্স, ন্যাশনাল হাসপাতাল নিয়েও ভর্তি করাতে পারেননি। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়ার পর তিনি মৃত্যু বরণ করেন।  বাবার মৃত্যুর জন্য বেসরকারি হাসপাতালের অবহেলাকেই দায়ি করেন দাবি ছেলে অভিজিৎ।

এদিকে বুধবার মধ্যরাতে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের চৌধুরীর বাবা জসিম উদ্দিন চৌধুরী। জোবায়ের চৌধুরী জানান, ‘হঠাৎ আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার ওয়ার্ডের এক কর্মচারি অক্সিজেন সেচ্যুরেশন দেখে বলেন, অক্সিজেন ৮৯-এ নেমে এসেছে। ন্যাশনাল হাসপাতালের ফ্লু কর্ণার খালি নেই  জানিয়ে অন্য কোন হাসপাতালে যেতে বলেন। পরে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগেই আমার বাবা মারা যান।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

0Shares