আততায়ী প্রযুক্তির মরণ ছোবল


এইতো সেইদিন ১৯৯৩ এ হেঁটে বেড়িয়েছি পাহাড়ি স্রোতের পথ ধরে, বসেছিলাম সেই হ্রদের পাড়ে। বালি হাঁসেরা, পানকৌড়িরা সাঁতরে বেড়াচ্ছিল স্ফটিকস্বচ্ছ হ্রদের জলে। এক অজানা প্রশান্তি বয়ে যাচ্ছিলো পুরো অস্তিত্বে। আপনিও তো ছিলেন আমার পাশে প্রকৃতির প্রেমে মগ্ন হয়ে। সেই স্বর্গে হঠাৎ হল দানবের প্রবেশ। এই কি সেই মহিষাসুর যে প্রলোভনে স্রষ্টা বশ করেছিলো আর চেয়েছিল ত্রিভুবন বিজয়ী বর? আমি কি চিনতে ভুল করেছিলাম সেই ছদ্মবেশী মহিষাসুরকে?

হঠাৎ কোথায় যেন হারিয়ে গেলো সেই প্রকৃতির প্রেম। এই তো সেই মহিষাসুর যে এনেছিল এই বিষাক্ত মন। সেই গ্রামের পাহাড়ি স্রোতে আর ঘুরে বেড়াই না আমি আপনি। এখন আমরা সবাই হাঁটি রাজপথে। সেই পাহাড়ি স্রোত আমাকে আর টানে না কোথাও। আমি তো সেই অকৃতজ্ঞ যে ভালবেসেছি সেই মহাশত্রু মহিষাসুরকে। আমিতো আপনাকেও দেখতে পাই তার সাথে। কি হবে আমার সেই সবুজকে ভালবেসে? কিন্তু আমিতো না চাইতেই সবকিছু পাই সেই মহিষাসুরকে ভালবেসে। এখন সব কিছুইতো আমার হাতের মুঠোয়।

আমি আপনি কি এখনো ১৯৯৩ সালের সেই লোকগুলো যারা প্রাণ খুলে হাসতে জানতো হৃদয়ের গভীর থেকে? কেন যেন আপনার হাসি আমার ভালো লাগেনা এখন। কারণ হয়তো আমার হাসিতেও আছে সেই মহিষাসুরের ছায়া। আপনার সাথে আমিও হয়েছি সেই জঘন্য কেও। সবার হাসিতেও দেখি সেই দানবীয় ছায়া। কে সে মহিষাসুর?

আজ সেই স্বর্গীয় হ্রদ হয়েছে পার্ক, স্বর্গের অপ্সরী পাখিরা আর ওড়ে না সেই নীলাভ স্বর্গের আকাশে। পাহাড়ি স্রোত এখনো বয়ে যায়, আর নীরবে ডাকে তার পানে। সে তো আপনাকেও ডাকে, আপনার রক্তেও তো বইছে সেই প্রকৃতির মহাবিরল নিখাদ ভালবাসা। আপনি কি আমার মতো শুনেও এড়িয়ে যান সেই অতীতের মহা অকৃত্রিম প্রেমের ডাক? এইতো সেই অতীতের সাঁঝের বেলাতে গোধূলির অমৃতে আমিও ছিলাম সেই অমর প্রেমের সাথী।

আজ আমি খুঁজে পেয়েছি সেই মহিষাসুরকে। স্মার্টফোন আর সেই ফোনে ইন্টারনেট হল সেই স্বর্গের সেই বিষাক্ত মহিষাসুর। কে এবং কি ছিলাম আমি আপনি, আর কি দেখছি আমি এখন? কিভাবে পাবো আমি এই বিষাক্ত নাগপাশ থেকে মুক্তি? আজ থেকে এই প্রতিজ্ঞাগুলো কি আমি বাস্তবে পালন করতে পারি না? আমিতো প্রতিজ্ঞা করেছি,

১) আমি মহিষাসুরকে আর ভালবাসবো না কোনদিন। প্রতিমুহূর্তে কমাবো মোবাইল ফোন ব্যবহার। বরং, আমি আপনার পাশে বসবো আর আমরা কথা বলবো আরও দীর্ঘসময় নিয়ে।

২) আমি শহর থেকে পালিয়ে যাবো গ্রামে একটু ফাঁক পেলেই, আর গ্রামে লাগাবো সেই গাছগুলো যেগুলো আর দেখি না এখন। খেজুর গাছের কথাতো এই ভোরের শিশিরেই বলল আমাকে কোন এক গত সকালে।

৩) আবার হাঁটবো আমি সেই পাহাড়ি স্রোতস্বিনীর মহা প্রেমের আলিঙ্গনে। আর খুঁজে দেখবো কি নেই সেই অপরূপ স্বর্গে, প্রাণঢেলে চেষ্টা করবো সেই অপূরণকে পূরণ করতে। একা কই পারবো আমি এটা? আমিতো হাত বাড়িয়েছি আপনার পানে, আমার যে অনেক সাহায্য দরকার এই স্বর্গ মেরামতে। আপনিও কি আপনার হাত সাহায্যের জন্য বাড়িয়ে দিতে লজ্জিত?

আমি আপনি জেনেছি কিভাবে করবো দানবের হাত থেকে এই স্বর্গ উদ্ধার। তাহলে চলুন সবাইকে জানাই এই উদ্ধারের পথ। এখন থেকে আমি আপনি হাসবো সেই অতীতের প্রাণখোলা অকৃত্রিম হাসি আর ফিরে যাবো সেই অতীতের স্বর্গে।

লোকনাথ দাশ,অতিথি লেখক,ফোকাস চট্টগ্রাম২৪.কম

0Shares