কে পাচ্ছেন রাঙামাটি বিএনপির পৌর মেয়রের টিকিট?


ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে পৌরসভার নির্বাচন। দলের মনোনয়ন পেতে আবেদন করেছেন সেই কবে। প্রার্থীদের সাক্ষাতকারও হয়ে গেছে দিন কয়েক আগে। তবুও ঘোষনা আসছেনা চুড়ান্ত প্রার্থীর নাম। ভুট্টো, মামুন, শাকিল নাকি সায়েম? তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে  দ্বিধা, সংশয় ও আক্ষেপ। বিএনপির মত এতবড়  দলের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে এত দীর্ঘ সুত্রিতায় নেতা-কর্মীদের মাঝে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত কি আসে সেটি মাথায় রেখে ধীরে চলো নীতিতে হাটার পথ বেছে নিয়েছে জেলা বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা, এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে পৌরশহরের চলমান নির্বাচনী বাতাসে।

আসন্ন রাঙামাটি পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে প্রথম পর্যায়ে আবেদন করেন ১৩ জন  নেতা। এরমধ্যে সাক্ষাতকারে অংশ নেন ১২ জন। একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র থেকে জানা গেছে, সে তালিকা কাট-ছাট করে প্রথমে চারজনে, পরে একজনে এসে ঠেকেছে। কেউ বলছে, ভুট্টো, কেউ বা শাকিল, কেউ কেউ মামুন অথবা সায়েম। তবে, মুখবন্ধ শীর্ষ নেতাদের। হাটছেন কৌশুলী পথে। সুত্রটি বলছে, অপেক্ষাকৃত ক্লিন ইমেজ  ও তরুন নেতৃত্বকে সামনে রেখে একজনকে বেছে নেয়া হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে তার নাম ঘোষনা করা হবে।

জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে,  আগামী পৌর নির্বাচনে কে হবেন বিএনপির মনোনিত প্রার্থী তা এক প্রকার নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। সময় বুঝে ঘোষনা আসবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহ আলম জানান, আমরা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের স্বাক্ষাতকার নিয়েছি। প্রার্থীরা যাছাই-বাছাইও হয়ে গেছে। আগামী পৌর নির্বাচনে কে হবেন বিএনপি মনোনিত প্রার্থী তা অচিরেই পৌরবাসী জানতে পারবে।

এদিকে, জেলা বিএনপির স্বাক্ষাতে ১২ জন অংশ নিলেও নেতা-কর্মীদের মুখে ঘুরে ফিরে উচ্চারিত হচ্ছে চারজনের নাম। তাদের মধ্যে সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্টো, পৌর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. মামুনুর রশিদ মামুন, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম শাকিল ও যুবদল সা: সম্পাদক আবু সাদাৎ মোঃ সায়েম। দলীয় নীতি-নিধারনী পর্যায়ের সুত্র অনুযায়ী এই চারজনের মধ্যে যে কেউ এবার মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন।

মেয়র পদের প্রত্যাশী মামুন, শাকিল ও সায়েম এর মুখে তৃনমুল পর্যায় থেকে রাজনীতির এপিট ওপিট চড়ে উঠে আসা দলের যেকোন সিদ্ধান্তকে মাথা পেতে নেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও রাঙামাটির রাজনীতিতে বরাবরই উল্টো পথে হাটা সাইফুল ইসলাম ভুট্টো মেয়র পদে  তাকে ছাড়া অন্য  কাউকে মানতে নারাজ। এ নিয়ে জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের কর্মকান্ড নিয়ে নানা সমালোচনা-কটুক্তিতে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও বিভিন্ন মিডিয়াতে বক্তব্য দিয়েছেন।

সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্টো বলেছেন, মেয়র পদে আমিই যোগ্য। তিনি বলেন, আমি দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। আমি ছাড়া যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে, তা বিএনপির জন্য আত্মঘাতি হবে। বর্তমান জেলা বিএনপির যারা দায়িত্বশীল আছেন তারা আওয়ামী লীগের সাথে গোপন আতাঁত করে  যেন তেন মেয়রপ্রার্থী দিয়ে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহন করছে এটা দেখানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপিকে এ বিষয়ে অবগত করেছি। আমি মেয়র পদে থাকাকালীন দেড়শ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এনেছি। দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র হতে পারলে ফিসারী বাঁধকে নিয়ে যে একশত কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো।

মেয়র প্রত্যাশীর দৌঁড়ে আছেন পৌর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. মামুনুর রশিদ। রাজনীতির মাঠে পরীক্ষিত সৈনিক। জন্ম থেকেই রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এ্যাড. মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, আমাদের পরিবারের আগাগোরা সকলেই বিএনপির রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। বলাচলে, রক্তে মিশে আছে। মেয়র পদে নিজেকে যোগ্য দাবি করে বলেন, দলের শীর্ষনেতৃবৃন্দর প্রতি আমি আস্থাশীল, তারা কোন ভুল সিদ্ধান্ত নিবেন না। আশাকরি, আমাকেই মনোনয়ন দিবেন। না দিলেও আক্ষেপ নেই। পারিবারিকভাবে আমরা আত্মত্যাগী। দলীয় আনুগত্য, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আমরা বংশপরক্রমায় কাজ করে যাচ্ছি। যদি মেয়র নির্বাচিত হয়, তাহলে রাঙামাটিবাসীকে একটি সুন্দর, সবুজে ঘেরা, পর্যটন ও জনবান্ধব শহর উপহার দিতে চাই।

বিএনপির রাজনীতির আরেক পরীক্ষিত সৈনিক জেলা যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল রাজনীতির মাঠে নিজেকে কর্মী বান্ধব দাবি করে বলেন, দল এবার আমাকেই মনোনয়ন দিবেন। তৃনমুল পর্যায় থেকে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা স্বীকার করে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। সকলের সুখে দুঃখে সব সময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হলে রাঙামাটি পৌরশহরকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা করার সব চেষ্টায় করে যাব।

আরেক মেয়র প্রত্যাশী যুবদল সা: সম্পাদক আবু সাদাৎ মোঃ সায়েম মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে ভীষন আশাবাদি। তিনি বলেন, দল তার আত্মত্যাগকে অবশ্যই মুল্যায়ন করবে। একেবারে ছাত্র রাজনীতি থেকে বিরোধী পক্ষের মামলা হামলায় জর্জরিত এই তরুন নেতা বলেন, আমিই বিএনপির পরীক্ষিত সৈনিক। দলের প্রতি আমার আত্মত্যাগ  এ  শহরের প্রতিটি মানুষের জানা। দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমি অবশ্যই আশাবাদি মনোনয়নের ব্যাপারে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ঘনিয়ে আসছে নমিনেশন পেপার জমা দেয়ার সময়। প্রার্থীর নাম ঘোষনার বিলম্বে বিএনপির সাধারন নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে কানাঘুষা। নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের ধীরে চলো নীতি বা চুপ থাকা নিয়ে দলটির নেতা-কর্মীদের মাঝে চলছে চাপা উত্তেজনা। দিন শেষে কাকে মাঠে নামিয়ে দিচ্ছেন আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সে প্রশ্নের উত্তরের প্রহর গুনতে হচ্ছে তাদেরকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক-রাঙামাটি, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

0Shares