নির্বাচনী সহিংসতা: কাউন্সিলর প্রার্থী কাদেরসহ ১১ জন রিমান্ডে


মহানগরীর ২৮ নং পাঠানটুলি এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘাত এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ জানুয়ারী) দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে নির্বাচনী সংঘাতে একজন নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এতে আটক হওয়া কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরকে মূল অভিযুক্ত করে মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নিহত আজগর আলী বাবুলের ছেলে সিজান মোহাম্মদ সেতু বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

মোগলটুলি এলাকার বাসিন্দা জোরাইজ সরওয়ার বলেন, আজগর আলী বাবুল আমাদের এলাকার পরিচিত মানুষ। রাতের ঘটনার পর থেকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এখানে। পুলিশের টহল রয়েছে।  ওই এলাকায় টহলরত পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক বলেন, পুনরায় সংঘাত এড়াতে টহল দিচ্ছি আমরা।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ২৮ নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মগপুকুর পাড় এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সদ্য সাবেক কাউন্সিলর মো. আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।  এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দুইজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মো. আজগর আলী বাবুল (৫৫) নামে একজন মারা যান। নিহত আজগর আলী বাবুল আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সমর্থক।

আজগর আলী বাবুলের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। তার স্ত্রী-সন্তান সহ পরিবারের লোকজন এ ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না। তাদের সান্ত্বনা দিতে এসেছেন আত্মীয়-স্বজনরা।

নগর পুলিশের ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার শ্রীমা চাকমা বলেন, আবদুল কাদেরসহ ১৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ডিবি মামলাটি তদন্ত করবে। জানতে চাইলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) মনজুর মোরশেদ বলেন, ডিবিকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। ডিবি পরিদর্শক শাহাদাত মামলা তদন্ত করবেন।

জানা গেছে, নজরুল ইসলাম বাহাদুর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য এবং পাঠানটুলি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। ২০১০ সালে তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী আবদুল কাদেরের কাছে তিনি পরাজিত হন। এবার আবদুল কাদের দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। নিহত আজগর আলী বাবুল ও আহত মাহবুব উভয়ই বাহাদুরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

সংঘর্ষ শুরুর পর আবদুল কাদের ও তার কয়েকজন অনুসারী মগপুকুর পাড়ে তাহের ভবনের দোতলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ডবলমুরিং থানা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে ভবনটি ঘিরে কাদেরসহ তার অনুসারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখান থেকে আবদুল কাদেরসহ সবাইকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এদিকে নির্বাচনী সংঘাতে একজন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিন এ আদেশ দিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন বলেন, ’১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত তিন দিন মঞ্জুর করেছেন। আসামিদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

আবদুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, এম কে কবির হেলাল উদ্দিন (৪০), ওবায়দুল কবির মিন্টু (৪০), আসাদুজ্জামান নূর রায়হান (২৯), ইমরান হোসেন ডলার (২৪), দিদার উল্লাহ দিদু (৪৮), মিনহাজ হোসেন ফরহাদ (২০), শহীদুল আলম সাহেদ (৩৭), জাহিদুল আলম জাহিদ (২৫), শহিদুল ইসলাম (৩৩), আব্দুর রহমান (৪৪)।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

0Shares