নির্বাচনে উত্তাপ থাকে, এ উত্তাপ যেন আত্মঘাতী না হয়: সুজন


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, নির্বাচন আসলে উত্তাপ থাকে। এ উত্তাপ যেন আত্মঘাতী না হয়। এ উত্তাপ যেন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতিকে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না করে। ইচ্ছে করলে মিছিল মিটিং ছাড়াও নির্বাচন করা যায়। এখন মিডিয়ার যুগ। ফেসবুকের যুগ। ম্যাসেজ পাঠাতে পারেন। আমি মনে করি, যতটুকু হয়ে গেছে, আর কোথাও যেন সহিংসতা না হয়। সবাই প্রশাসনকে সাহায্য করুন। নির্বাচনের পর সবাই যেন একসঙ্গে আনন্দমুখর পরিবেশে কাজ করতে পারি।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারী) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সুজন এসব কথা বলেন।

এ সময়  চসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জিতলে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারবে না মন্তব্য করে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বিএনপির সচেতনদের নৌকায় ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে বিএনপিরও যারা সচেতন আছে চট্টগ্রামের স্বার্থে ও চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার প্রার্থীকে জয়যুক্ত করে ফেলাটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শেখ হাসিনা যাকে প্রার্থী দিয়েছেন আমরা তাকেই চিন্তায় আনতে হবে। এটা এই জন্য যে চট্টগ্রামের স্বার্থে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির যেটা সুবিধা হচ্ছে সেটা হচ্ছে- এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা একটা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছে, অনেক দিন তারা রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, এ নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণ করছে। চট্টগ্রাম ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে এ চট্টগ্রাম হবে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার শ্রেষ্ঠ যোগাযোগ কেন্দ্র। এটা উপলব্ধি করতে পেরেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল তৈরি করছেন। মাতারবাড়ীতে সমদ্রবন্দর হয়ে গেছে। সেখানে আলাদা জগত গড়ে উঠেছে। মিরসরাই স্পেশাল ইকোনমিক জোনে সারা পৃথিবীর ইনভেস্টরার ছুটে আসছেন। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রথম নির্বাচনী ইশতেহারে ২৮ দফার অন্যতম ছিল- পতেঙ্গা থেকে ফেনী হাইওয়ে পর্যন্ত বাইপাস করা। মহিউদ্দিন চৌধুরী আজ বেঁচে নেই। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন নেত্রী। একের পর এক এক্সপ্রেস ওয়ে হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ হচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের দল। যোগ্য প্রার্থীকে নমিনেশন দিয়েছে। বিএনপি তাদের সভাপতিকে প্রার্থী করেছে। ইসলামিক ফ্রন্টসহ অন্যান্য দলও প্রার্থী দিয়েছে।

স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণি থেকে রাজনীতি করছি। সত্তরের নির্বাচনে তিন পোলের মাথায় দেশবাংলা হোটেলে দুইটা নানরুটি আর এক বাটি ডাল খেয়ে ঘোড়ার গাড়িতে পাবলিসিটি করেছি। স্থানীয়, জাতীয় নির্বাচন যাই হোক মনোনয়ন না পেয়েও কোনোদিন ঘরে বসে থাকিনি। অভিমান করে বসে থাকিনি। পলিটিক্স, নির্বাচন চলমান প্রক্রিয়া। হয়তো আজ পাইনি, আগামীতে পাব। আধুনিক রাষ্ট্রে দলের সিদ্ধান্তই হচ্ছে মুখ্য। সুতরাং দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।

তিনি বলেন, এবার আমার জীবনের কঠিন সময়। এবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছি না। যেহেতু আমার একটি দায়িত্ব আছে। আমার ভেতরে যে কষ্ট, খাঁচার পাখির মতো বন্দিশালায় আছি। সবাই মিছিল করছে, মিটিং করছে আমি দেখছি। আমি আগে কত স্লোগান দিয়েছি। প্রজন্মের প্রথম ভোট নৌকা দিয়ে শুরু হোক। ক্রিয়েটিভিটি কমে গেছে। আমার ভেতরের ছটফটানি কাউকে দেখাতে পারছি না।

তিনি করোনাকালেও খাল পরিষ্কার, মশার ওষুধ ছিটানো অব্যাহত রয়েছে বলে জানান। এ পর্যন্ত চার-পাঁচ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। এসব রোগীর বাসা-বাড়ি এলাকায় স্পেশালি কেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

0Shares