পাহাড়ে কমলার বাম্পার ফলন


পাহাড়ে নতুন করে বিস্তার লাভ করেছে কমলার চাষ। এতে চাষিরা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে চাষির মুখে হাসির বদলে চোখে হতাশার ছাপ। বিগত কয়েক বছরের তুলনার এ বছর পার্বত্য বান্দরবানের আলীকদমে এবার কমলার বাম্পার ফলন হয়েছে।

ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারে পাকা কমলা বিকিকিনি শুরু হয়েছে। বাগান থেকে কমলা আহরণের পদ্ধতি, হিমাগারের অভাব, পরিবহন ব্যবস্থা এবং একই পণ্যের ওপর একাধিকবার টোল আদায়সহ বিভিন্ন সদস্যর কারণে বাগান মালিকরা দেখতে পারছে না লাভের মুখ। অন্যদিকে দাদন ব্যবসায়ীদের সুদের কবল থেকেও রেহাই পাচ্ছে না এক শ্রেণির চাষি। আর এতে সারা বছর পরিশ্রম করেও পাহাড়ের কমলা আবাদকারী উপজাতি-বাঙালি কমলা বাগান মালিকদের কপালে চিন্তার রেখা মুছে না। অভাব লেগে থাকে বছর ধরে। সিলেটের ছাতকের পর পার্বত্য বান্দরবানে সুস্বাদু কমলার স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে অনেক আগে। পাহাড়ে ঢালে জুম চাষ বাদ দিয়ে উপজাতিরা কমলা, আম, আর আমের বাগান। একই সঙ্গে গড়ছে ফলদ, বনজ গাছের বাগান।

গত এক দশক ধরে কমলার চাষ বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে উঠেছে। এখন এ সব পাহাড়গুলোতে থোকায় থোকায় দেশীয় জাতের কমলায় ভরপুর। প্রতি বছর কমলার মৌসুমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর পরিমাণে কমলা সরবরাহ করা হয়।

তবে কমলা গাছ পরিচর্যা, গাছ থেকে কমলা আহরণ, সংরক্ষণ ও বাজারযাত করণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বাণিজ্যিকভাবে কমলা বাগানের প্রতি আরো উৎসাহ পেত বলে জানান উপজাতি-বাঙালি কৃষকরা। কৃষি বিভাগের অসহযোগিতার কথা জানিয়ে একাধিক কমলা বাগানের মালিক জানান, উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দুর্গম এলাকার বাগান মালিকরা কোনো সহযোগিতা পান না।

ভালো বীজ, কীটনাশক ওষুধ ও সার যদি সুলভ মূল্যে পাওয়া যেত। বাগান মালিকরা আক্ষেপ করে বলেন, কমলা আহরণের তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই পচন ধরে। কিন্তু জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার না থাকায় মারাত্মক বিপাকে পড়তে হয় চাষিদের। বাধ্য হয়ে কম মূল্যে বিক্রি করতে হয় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদন করা এ সব পণ্য।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য আবাদের চেয়ে কমলা বাগানে অনেকাংশে ঝামেলা কম ও পাহাড়ের মাটি ক্ষয় রোধে সহায়ক। লাভ বেশি হওয়ায় বর্তমানে অনেকে এ আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। বছরের মে থেকে জুন মাস কমলা চারা রোপণের উত্তম সময়। সাধারণত চারা লাগানোর ৫-৬ বছর পর থেকে কমলা উৎপাদন শুরু হয়। মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে ফুল থেকে ফল এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে ওই ফল পাকতে শুরু করে। এখানকার পাহাড়ের মাটি, আবহাওয়া কমলা চাষের উপযোগী। এ কারণে বাঙালিদের দেখাদেখি উপজাতিরা জুম চাষের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে কমলা বাগান করছেন। এক একটি কমলা গাছে ৫শ থেকে ১ হাজারটি কমলা ধরে এবং ১৫ বছর পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে।

এখানকার পাহাড়ের মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে এসিডিক রয়েছে। কমলা চাষ বেশি লাভজনক হওয়ায় জুম চাষিরা জুম চাষ থেকে বেরিয়ে এসে ধীরে ধীরে কমলা বাগান করার দিকে ঝুঁকছে। পার্বত্য এলাকায় এখনো হাজার হাজার হেক্টর পাহাড়ি ভূমি অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে। এই বনায়নে সরকারি ঋণ সহজ করা হলে কমলা, আমসহ লাভবান ফলদ বাগানের দিকে স্থানীয়রা এগিয়ে আসতেন।

0Shares