পাহাড়ে সম্ভাবনা জাগিয়েছে ব্রোকলী চাষ


পাহাড়ের মাটিতে ব্রোকলি সবজি চাষ করে সম্ভাবনা জাগিয়েছেন রাঙামাটির লংগদুর জাহাঙ্গ আলম । ইতালীয় জাতের ব্রোকলীর ওজন হয়েছে পাঁচশ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত। তার এই সফলতায় পাহাড়ের মাটিতে সবজিটির চাষের  সম্ভাবনা দেখছেন রাঙামাটির কৃষি বিভাগ।

কপি মানেই কৃষকরা বুঝতেন ফুলকপি বা বাঁধাকপি। তবে বিলেতি সবুজ ফুলকপিও ফলছে রাঙামাটিতে। কৃষিক্ষেত্রে দিশা দেখাচ্ছে এই সবুজ ফুলকপি। ব্রোকলি রাঙামাটি মানুষের কাছে একেবারেই নতুন সবজি।

এমন একটি শীতকালীন সবজি ফলিয়ে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন রাঙামাটির দুর্গম লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম ইউনিয়নের চ্যাইলাতলী গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম।

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার চাইল্যাতলী গ্রামে কাপ্তাই হ্রদের কাছে  পাহাড়ের উপর জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ী। গত ডিসেম্বরে পাহাড়ের উপর মাটির সমান করে প্রায় ২০ শতক জমিতে সেচের ব্যবস্থা করেন। পরে রোপন করেন বারশ ব্রোকলীর চারা। মাটিতে দেন নিজের বানানো জৈব সার। পরিচর্যার পর প্রতিটির ব্রোকলীর ওজন হয়েছে আধা কেজি থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত।উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে ভালো মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন জাহাঙ্গীর আলম। পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ সবুজ এই সবজিটির বাজারে বেশ চাহিদা রয়েছে। পাহাড়ের উর্বর জমিতে শীতকালীন অন্যান্য সবজির মতো চাষ করলে তার মতো অনেক চাষী লাভবান হবেন বলে আশা জাহাঙ্গীরের।

এ প্রসঙ্গে ব্রোকলী চাষী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাহাড় কেটে জমি তৈরী করে নিয়েছি। যেহেতু আমি সবসময় আগাম সবজি চাষ করতে পারি। এটা আমার চিন্তার মধ্যে ছিল সেজন্য আমি করেছি। জাহাঙ্গীর আলম আরো জানান, ২০১০ সালে রাঙামাটি পার্বত্য  জেলা পরিষদ ও ইউএনপি’র যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন কৃষি চাষাবাদ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এই প্রশিক্ষণ থেকে তিনি নতুন সবজির চাষ সম্পর্কে ধারনা পান। এরপর দুই বছর ধরে সবুজ ফুলকপির (ব্রোকলি) চাষ করছেন। প্রথমে গত বছর পরীক্ষামূলক ৫ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। এবছর ২০ শতক জমিতে প্রায় ১২‘শ ব্রোকলির চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার টাকা। খরচ বাদে লাভ হবে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

এদিকে, রাঙামাটির বাজারে প্রতিটি ব্রোকলীর দাম ৭০-৮০ টাকা।এ সবজিটির সাথে পরিচয় ছিলনা এখানকার চাষীদের। এখন জাহাঙ্গীরের সফলতা দেখে অনেকে আগ্রহ দেখাছেন।

অপরদিকে,  লংগদু উপজেলা কৃষি কর্মকতা জানান, যদিও এ সবজি সম্পর্কে লোকজন এত পরিচিত না। এরপরও আমরা লংগদু কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ প্রচারনা চালাচ্ছি। এই সবজিটা একটি সম্ভাবনাময় সবজি। এটি কৃষির বাণিজ্যিকীকরনে সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, কোন কীটনাশক ব্যবহার না করায় এসব সবজি নিরাপদ উৎপাদকের তালিকাভুক্ত করে পরামর্শ ও উপকরন দিয়ে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ব্রোকলি ক্রসিফেরী গোত্রের অন্তর্ভুক্ত শীতকালিন সবজি। এতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফোলেট, আঁশ আছে। এই সবজি হৃদরোগ, বহুমূত্র এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ব্রোকলি জারণরোধী ভিটামিন এ এবং সি সরবরাহ করে কোষের ক্ষতিরোধ করে’। সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও অধিক লাভবান হওয়ায় অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন ব্রোকলি চাষে।

রাঙামাটি শহরের বনরূপা বাজারের ব্রোকলী বিক্রেতা  মোঃ হারুন জানান,এই সবুজ ফুলকপি (ব্রোকলি) মানুষের কাছে একেবারেই নতুন সবজি। যার কারণে কম বিক্রি হচ্ছে। তবে নতুন সবজি হওয়ায় দৈনিক ১৫ থেকে ২০ কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এই সবজি রাঙামাটির লংগদু উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম থেকে পাইকারী দরে ক্রয় করেছেন। তারা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

রাঙামাটির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, চলতি মৌসুমে এ জেলায় শীতকালীন ব্রোকলি চাষ হয়েছে প্রায় ১ একর জমিতে। এরমধ্যে জেলার লংগদু উপজেলা, কুতুকছড়ি, সাপছড়ি এলাকায় এই শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। এরমধ্যে সফল হয়েছে লংগদু উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম।  তিনি আরও বলেন, এ সবজি চাষ কৃষকদের মধ্যে কীভাবে ছড়িয়ে দেয়া যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং  আশা করছি আগামী বছর থেকে ব্রোকলি চাষ আরো বাড়বে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

0Shares