মুজিব বর্ষে ভারতীয় সাংবাদিক দলের চট্টগ্রাম সফর: বন্ধুত্বের নতুন মাইল ফলক


জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে চার দিনের সফর শেষে ভারত ফিরে গেছে আগরতলা সাংবাদিক প্রতিনিধি দল। মুজিব বর্ষে ভারতীয় সাংবাদিক দলের চট্টগ্রাম সফর দুই দেশের সাংবাদিকদের বন্ধুত্বের নতুন এক মাইল ফলক সৃষ্টি করেছে। আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে সব চেয়ে বেশী সহায়তা প্রদানকারী দেশ ভারতের আগরতলার ১৮ সদস্যের সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের ১১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারী  ২০২০ ইং  পর্যন্ত চার দিনের এই সফরের মাধ্যমে প্রতিবেশী দুই দেশের সাংবাদিকদের বন্ধুত্বপূর্ন সর্ম্পক আরও যে সুদৃঢ় হয়েছে যা বলার  অপেক্ষা রাখে না।  বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অকৃত্রিম বন্ধু ও প্রবীন সাংবাদিক বাংলাদেশ প্রেমী সুবল কুমার দে সম্পাদিত ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বহুল প্রচারিত দৈনিক স্যন্দন পত্রিকার ত্রুীড়া সম্পাদক সরযু চত্রুবর্তীর নেতৃত্বে সাংবাদিক দল চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের আমন্ত্রণে মুজিববর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সফরে আসেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে দুইদেশের বন্ধুত্বের এবারের সফরের আলোচনায় যাওয়ার আগে পাঠকের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন মুক্তিযোদ্ধে বাংলাদেশ প্রেমী সুবল কুমার দের অবদানের কথা।

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে অনেক বিদেশী বন্ধু আমাদের স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছেন। সেই সকল বন্ধুর ভুমিকার জন্যই পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মানচিত্র পেয়েছে। তাদেরই একজন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু আগরতলা প্রেস ক্লাবের বর্তমান সভাপতি , সফল রাজনীতিবিদ ও ৪০ বছর ধরে সাংবাদিকতার সাথে জড়িত ত্রিপুরা রাজ্যের বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা দৈনিক স্যন্দন প্রত্রিকার সম্পাদক বাংলাদেশ প্রেমী সুবল কুমার দে। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ২৫শে মার্চ পাক হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে শত শত বাঙ্গালীকে হত্যা করে সেই সময় বাংলাদেশ থেকে মুক্তিকামী মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ট্রেনিং এর জন্য ভারতে প্রবেশ করতে থাকে। সেই সময় চীনপন্থি কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা কর্মীরা পাটির নির্দেশে বাংলাদেশীদের ভারতে প্রবেশে বাধা দিলে সে সময়কার ত্রিপুরা রাজ্যের নকশালের সাধারণ সম্পাদক সুবল কুমার দে পার্টির নিদের্শ  অমান্য করে বাংলাদেশীদের সহায়তা করেন এবং দলীয় নেতৃবৃন্দকে বুঝানোর চেষ্ঠা করেন। কিন্তু দলীয় নেতৃবৃন্দ সুবল দের কথা না শুনে তাকে সীমান্তে লোকজন নিয়ে বাংলাদেশীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তার পরও তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে বাংলাদেশীদের  ভারতে প্রবেশে সহায়তা করে যান। পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে বাংলাদেশীদের  সহায়তা করার অপরাধে  তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং ১ বৎসর কারাভোগ করেন। তিনি তখন যদি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে বাংলাদেশীদের ত্রিপুরা প্রবেশে বাধা দিতেন তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ৯ মাসে শেষ নাও হতে পারত। স্বাধীনতা যুদ্ধে আগরতলায় সবচেয়ে বেশী ট্রেনিং ক্যাম্প ছিল বাংলাদেশের। বাঙ্গালীরা যদি এই ট্রেনিং ক্যাম্প গুলোতে ট্রেনিং নিতে না পারত তাহলে মুক্তিযোদ্ধারা এত দ্রুত পাক-হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করতে পারত না। এই রকম সুবল দে সহ আরও অনেকে আছেন যারা ভিন্ন দেশের হয়েও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যাপক ভুমিকা রেখেছে। এই ভুমিকার কারণেই পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে কম সময়ে বাংলাদেশ নিজস্ব পতাকা পেয়েছে। তাছাড়াও স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে বাংলাদেশের লক্ষ শরর্নাথীকে আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত বিশেষ করে ত্রিপুরার মানুষ আমাদের যে সহযোগীতা করেছেন তার জন্য আমরা তাদের কাছে ঋণী। বাংলাদেশ প্রেমী সুবল দে’র বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাকুরী করার সুবাদে তিনি অন্নদা সরকারী স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং সদরের সুলতানপুর গ্রামে থাকতেন স্বপরিবারে। তিনি তার শৈশব কাটিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের নিজ বাড়িতে। শৈশবের স্মৃতি বিজরিত বাড়ী দেখতে বাংলাদেশপ্রেমী মানুষটি বিএনপি-জামাত জোট সরকার আমলে দুইবার  ভিসার আবেদন করেও ভিসা পায়নি। তার চাওয়া মৃত্যুর আগে বাবার ভিটা বাড়ী একবার দেখা। বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রামে ভুমিকা রাখার জন্য অনেক বিদেশীকে সম্মাননা দিয়েছে সরকার। এদের মধ্যে সুবল দে’র  গল্প হয়ত অনেকে জানে না। আমাদের আশা  ও দাবী বাংলাদেশ প্রেমী সুবল কুমার দে’কে সম্মানিত করা হোক পিতার ভিটা বাড়ী দেখতে রাষ্ট্রিয় অতিথি করে।

এবার আসা যাক প্রতিবেশী দুই দেশের সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সফরের কথায়। ত্রিপুরার জনপ্রিয় দৈনিক স্যন্দন পত্রিকার সম্পাদকের আমন্ত্রণে স্যন্দন এর ৫০ বছর পুর্তি উপলক্ষে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে চট্টগ্রামের ২২ সদস্যের সাংবাদিক প্রতিনিধি দল প্রীতি টি-২০ ত্রিুকেট ম্যাচ খেলতে ৪ দিনের সফরে আগরতলা যায়। খেলা ছাড়া প্রেস ক্লাব কর্তৃক সংর্বধনা অংশগ্রহন ও নীড় মহল সহ ত্রিপুরার পর্যটন স্পট গুলো ঘুরে দেখেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক দল। স্যন্দন পত্রিকা আমন্ত্রণে সুন্দর ও সফল ত্রিপুরা সফরের পর চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের আমন্ত্রনে ফিরতি সফরে এক বছর পর ফেব্রুয়ারী ২০২০- এ টি-২০ প্রীতি ত্রিুকেট ম্যাচ ও অন্যান্য কর্মসুচীতে যোগ দিতে চট্টগ্রাম সফরে আসেন স্যন্দন পত্রিকার নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের আগরতলা সাংবাদিক প্রতিনিধি দল। ১১ই থেকে ১৪ই ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত চার দিনের চট্টগ্রাম সফরে ভারতের সাংবাদিক দলের নেতৃত্ব দেন স্যন্দন এর ত্রুীড়া সম্পাদক সরযু চত্রুবর্তী। ১১ই ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় আখাউড়া বর্ডার হয়ে মহানগর ট্রেন যোগে চট্টগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশনে এসে পৌছে আগরতলা সাংবাদিক দল। ষ্টেশনে সফরকারী দলকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান ভারতীয় দলের চট্টগ্রাম সফর আয়োজক কমিটির আহবায়ক নজরুল ইসলাম ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ ফারুক সহ কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ। সেখান থেকে সাংবাদিক দলের সদস্যদের নিয়ে যাওয়া হয় পূর্ব নিধারিত চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ শাহাজাহান কর্তৃক আয়োজিত সবুজ হোটেলের সংর্বধনা অনুষ্ঠানে। মোহাম্মদ শাহাজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সংর্বধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ত্রুীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস। সংর্বধনায় আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম জেলা ত্রুীড়া সংস্থার সাবেক সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সিজেকেএস নির্বাহী সদস্য আবুল হাসেম, জি এম হাসান ও সফরকারী দলের দল নেতা সরযু চত্রুবর্তী। সংবর্ধনা শেষে সাংবাদিক দলকে মধ্যাহ্ন ভোজে আপ্যায়িত করা হয়। সেখান থেকে প্রতিনিধি দলকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম অবস্থানকালে সফরকারী দলের আবাসস্থল সার্সন রোড়স্থ জেলা পরিষদ গেষ্ট হাউজে । কিছুটা সময় বিশ্রামের পর সন্ধ্যায় প্রতিনিধি দল পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ভ্রমনে যায়। ভ্রমনকালে সফরকারী দলের সদস্যরা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করেন এবং বেশ কিছুক্ষন সময় কাটান।

সফরের ২য় দিন সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম এম এ আজিজ ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ আগরতলা স্যন্দন সাংবাদিক একাদশ ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক একাদশের মধ্যে মুজিব বর্ষের বিশেষ আয়োজন ভারত – বাংলাদেশ টি – ২০ প্রীতি ত্রিুকেট ম্যাচ। ম্যাচের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা ত্রুীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারন সম্পাদক ও এশিয়া দাবা ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দীন শামীম। বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক ও দর্শকের উপস্থিতিতে ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে মাঠে নামে কোচ দেবাশীষ বড়ুয়া দেবু ও ম্যানেজার সাইফুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বধীন স্বাগতিক চট্টগ্রাম সাংবাদিক একাদশ। আগরতলা দলের নিয়ন্ত্রিত বোলিং মোকাবেলা করে নিধারিত ২০ ওভারে সংগ্রহ করে ৭ উইকেটে ১৩০ রান। দলের পক্ষে সর্ব্বোচ  ৩১ রান করেন সুমন গোস্বামী। জয়ের জন্য ১৩১ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ১৯.২ বলে সব উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান সংগ্রহ করলে ৪ রানে জয় পায় চট্টগ্রাম সাংবাদিক একাদশ। জয়ের পর মাঠ জুড়ে চলে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের আনন্দ উল্লাস। ম্যাচ সেরা হন চট্টগ্রামের সুমন গোস্বামী। উল্লেখ্য যে, আগরতলায় দুই দেশের সাংবাদিকদের ১ম ম্যাচে ২০১৯ সালে জয় পায় স্যন্দন একাদশ। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস, সিজেকেএস অতিরিক্ত সাধারন সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দীন শামীম, ম্যাচ স্পন্সর এএমএমএস  লজিস্টিক এর পরিচালক ও বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের সহ- সভাপতি শফিকুল আলম জুয়েল, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারন সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিজেকেএস সহ- সভাপতি দিদারুল আলম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক মশিউর রহমান, আয়োজক কমিটির আহবায়ক নজরুল ইসলাম ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ ফারুক।

বিকাল ও সন্ধ্যায় সফরকারী দলের সদস্যরা যোগ দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এবং চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় দূতাবাস আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভি আই পি মিলনায়তনে প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংর্বধনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সফরকারী দলের সকল সদস্যকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

সভায় স্যন্দন পত্রিকার পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নকে এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে আগরতলা প্রেস ক্লাবকে ত্রেুষ্ট প্রদান করা হয়। মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ম সামশু, যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও সফরকারী দলের প্রধান সরযু চত্রুর্বতী। মতবিনিময় সভায় উভয় দেশের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ দুই দেশের সাংবাদিকদের এই সুন্দর বন্ধুত্বপুর্ণ সর্ম্পকে আগামীতে আরও সুদৃঢ় করতে যৌথ ভাবে কাজ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এরপর সন্ধ্যায় খুলসী চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় দূতাবাসে আয়োজিত সংর্বধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন সফরকারী দলের সদস্য ও চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য বার্ণাজি দুই দেশের সাংবাদিকদের মধ্যে ত্রিুকেট ম্যাচে অংশগ্রহনের জন্য ভারতীয় সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা  এবং  তাদের চট্টগ্রাম সফরের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের পেশাদারীত্বের প্রশংসা করেন। আগরতলা স্যন্দন সাংবাদিক দল সহকারী হাই কমিশনারকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান। পরে সবাইকে চা চত্রেু আপ্যায়ন করা হয়।

সফরের ৩য় দিন ভারতীয় সাংবাদিক দল নগরীর কৈবল্য ধ্যাম, স্বাধীনতা কমপ্লেক্স ও ফয়েজ লেক এ্যমিউজমেন্ট পার্ক পরিদশন করেন ও ওয়াটার পার্ক সী ওয়াল্ডে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন। সকালে সফরকারী দলের সদস্যরা ধর্মীয় তীর্থ স্থান কৈবল্য ধ্যাম ঘুরে দেখেন ও পূজা দেন। সেখান থেকে সমগ্র বাংলাদেশের এতিহাসিক ও প্রসিদ্ধ স্থাপনা গুলোর সমন্বয়ে গড়া মিনি বাংলাদেশ খ্যাত স্বাধীনতা কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান ভারতীয় সাংবাদিক দল। তারা মিনি বাংলাদেশে স্থাপিত জাতিয় সৃস্তি সৌধ, সংসদ ভবন, কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার, কার্জন হল, কান্তজীউর মন্দির, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, হাই কোট, আহসান মন্জিল সহ দেশের এৗতিহাসিক স্থাপনা গুলো ঘুরে দেখেন এবং সমগ্র বাংলাদেশ সর্ম্পকে একটি ধারনা নেন। পরে কমপ্লেক্সে অবস্থিত দেশের একমাত্র সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে সমগ্র চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ এবং দুপুরে ওয়াচ টাওয়ারের এলিভেন রিভলবিং রেষ্টুরেন্টে পার্ক কর্তৃপক্ষ দেয়া মধাহ্ন ভোজে অংশ গ্রহন করেন। সফরকারী ভারতীয় সাংবাদিক দলের সদস্যদের জন্য সুন্দর একটি আয়োজন করায় হেলাল সাহেব ও স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের কর্মকতা রবিউল হোসেন ও জনিকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

বিকালে দলের সদস্যরা যান চট্টগ্রামের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ফয়ে’জ লেক এ্যমিইজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সী ওয়াল্ডে। কনকর্ড গ্রুপের কর্মকর্তারা ফয়েজ লেকে প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানায়। পরিচয় পর্ব ও মতবিনিময় শেষে অতিথিরা পরিবেশ বান্ধব ব্যাটারি চালিত বোটে লেক ভ্রমন শেষে ওয়াটার পার্ক সী ওয়ার্ল্ডের সকল রাইট উপভোগ করেন। এ সময় সফরকারী দলের সদস্যরা ওয়েভপুলে মিউজিকের তালে তালে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন। ফয়েজ লেক কর্তৃপক্ষের জেনারেল ম্যানেজার  কমান্ডার (অবঃ) এ এস এম মনোয়ারুল ইসলাম আগত সাংবাদিকদের সাথে কেক কেটে তাদের চট্টগ্রাম ভ্রমনকে উদযাপন করেন। পাচঁ ঘন্টা অবস্থান কালে সফরকারী দলের সদস্যরা জানান এই ভ্রমন তাদের চট্টগ্রাম সফরের আনন্দকে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। পরে মত বিনিময় অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা ও চট্টগ্রামের বানিজ্য ও পর্যটন উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। মত বিনিময় অনুষ্ঠানে সফরকারী দলের সদস্য ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক বদরুল হায়দার চৌধুরী, সাংবাদিক মোহাম্মদ ফারুক ও কনকর্ড গ্রুপের কর্মকতা বিশ্বজিৎ ঘোষ সহ অন্যান্যরা। সন্ধ্যাকালীন আপ্যায়ন শেষে সাংবাদিক দলকে বিদায জানান কনকর্ড গ্রুপের জি এম সহ অন্যান্য কর্মকতারা। পানিতে সুরের মুর্ছনার সাথে উল্লাস প্রকাশ করে সুন্দর ও আনন্দমুখর ৫ ঘন্টা সময় অতিবাহিত করে সবাই ফিরে আসে গেষ্ট হাউজে। একটি মনে রাখার মত সুন্দর আয়োজনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য কনকর্ড গ্রুপ কর্তৃপক্ষ জি এম সাহেব সহ অন্যান্য কর্মকতাদের দুই দেশের সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

ভারতীয় সাংবাদিক বন্ধুদের সফরের ৪র্থ ও শেষ দিনের আলোচনায় যাওয়ার আগে যাদের আর্থিক এবং  পরিপাশ্বিক সহযোগীতা না পেলে প্রতিবেশী দেশের সাংবাদিকদের ৪ দিনের চট্টগ্রাম সফর ও প্রীতি ম্যাচের বিশাল আয়োজন সফল করা সম্ভব হতো না সেইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হয়। তাদের মাঝে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, বৈশাখী টেলিভিশনের বার্তা প্রধান অশোক চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, সাধারন সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ম্যাচ স্পন্সর প্রতিষ্ঠান এএমএমএস  লজিস্টিক এর পরিচালক শফিকুল আলম জুয়েল, সিজেকেএস অতিরিক্ত সাধারন সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দীন শামীম, সিজেকেএস যুগ্ম সম্পাদক মশিউর রহমান, সিজেকেএস কাউন্সিলর জাহেদুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহামুদ, ডায়মন্ড সিমেন্ট, এশিয়া গ্রুপ, সিজেকেএস, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, স্বাধীনতা কমপ্লেক্স কর্তপক্ষ, কনকর্ড গ্রুপ (ফয়েজ লেক ) কর্তপক্ষ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ, চট্টগ্রাম চেম্বার, চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী দুর্তাবাস সহ আয়োজক কমিটির সকল সদস্য, দলের কোচ দেবাশীষ বড়ুয়া দেবু , ম্যানেজার সাইফুল্লাহ চৌধুরী ও সকল খেলোযাড়দের কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

৪ দিনের সফরের ৪র্থ ও শেষ দিন ভোরে সফরকারী দলের সদস্যরা ফিরিঙ্গীবাজার মাছ বাজার ঘুরে দেখেন এবং বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ মজাদার ইলিশ মাছ ত্রুয় করে দেশে নেওয়ার সুবিধাতে পিস করে প্যাক করে নেয়। বাজার থেকে ফিরে এসে নাস্তা শেষে সকাল ১১টায় সফর শেষে দেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গেষ্ট হাউস ছেড়ে যাত্রা করা হয় রেলওয়ে ষ্টেশানের উদ্দেশ্যে। আনন্দঘন সফর শেষে ফিরে যাওয়ার বেলায় আবেগ আপ্লুত হয়ে যায় সবার হৃদয়। বন্ধুত্বের এই আবেগকে হৃদয়ে ধারন করে হাসি মুখে বিদায় জানিয়ে আমরা ফিরে আসি আর ওপার বাংলার বন্ধুদের নিয়ে ট্রেন ছুটে চলে আখাউড়ার পথে। আখাউড়া শুল্ক ষ্টেশন হয়ে সন্ধ্যায় আগরতলা ফিরে যায় সফরকারীরা। প্রতিবেশী দুই দেশের সাংবাদিকদের বন্ধুত্বের এই মিল বন্ধন অটুট থাক আগামী দিন গুলোতে। আবার দেখা হবে নতুন কোন আয়োজনে এপার বাংলায় না হয় ওপার বাংলায়। । বাংলাদেশ – ভারত বন্ধুত্বপূর্ন সর্ম্পক আরও সুদৃঢ় হোক। জয় হোক প্রতিবেশী দুই দেশের সাংবাদিকদের এই বন্ধুত্বের। জয় বাংলা। সবার জন্য শুভ হোক মুজিব বর্ষ।

লেখক: মোহাম্মদ ফারুক, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

0Shares