রাঙামাটিতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছেন ২৬৮ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার


মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ১ম পর্যায়ে রাঙামাটিতে ২৬৮ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার দুই শতক জমিসহ পাচ্ছেন ঘর। আগামী ২৩ জানুয়ারি সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের ঘর আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন ।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জমি ও ঘর প্রদান কার্যক্রমে জেলায় ক শ্রেণির ৭৩৬ পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে আপাতত ২৬৮ পরিবার পাচ্ছেন ঘর। উদ্বোধনী দিনেই এসব পরিবারকে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হবে। এর মধ্যে রাঙামাটি সদরে ৬০, কাপ্তাই উপজেলায় ৩০, রাজস্থলী উপজেলায় ৬২, বরকল উপজেলায় ১৯, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৩৫, লংগদু উপজেলায় ৩৪ ও নানিয়ারচর উপজেলায় ২৮ পরিবার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী দেওয়া উপহার বসতঘর। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে এ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে ।

এদিকে, সদর উপজেলার দূর্গম সাপছড়ি ইউনিয়নের কলাবুনিয়া পাড়ার বাসিন্দা মায়া রানী চাকমা ও কৌশিক চাকমা বলেন, আগে আমাদের বাশেঁর ঘর ছিল। এখন প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে আমরা একটি মাথা গোজার ঠাঁই পাচ্ছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।

ত্রিভুবন চাকমা ও ভাগ্যলক্ষী চাকমা জানান, আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে তার মধ্যে আমার ছেলেটি শারীরিক প্রতিবন্ধী । আমার স্বামী কৃষিকাজ করে সংসার চালায় তার এই উপার্জনে আমাদের কখনো জমি কিনে ঘর করা সম্ভব হতো না । প্রধানমন্ত্রীর কারনে আমরা এ পাকা ঘরটি পেয়েছি।

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের কলাবুনিয়া পাড়ার মেম্বার কিনা মোহন চাকমা বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেসব ভুমিহীনদের বাড়ি তৈরী করে দিচ্ছেন তারা এসব বাড়ি পেয়ে দারুন খুশী । কারন তারা দৈনিক পরিশ্রম  করে আয় রোজগার করে খায় নিজেরা টাকা দিয়ে বাড়ি তৈরী করার সামর্থ্য তাদের নাই। তিনি বলেন, আগে ছিল তাদরে ভাঙা ঘর কোনরকম কষ্ট করে দিন যাপন করতো এখন তাদের সেই কষ্ট আর করতে হবে না।

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা উপমা বলেন, রাঙামাটি সদর উপজেলার সর্বমোট ২৭৬ টি ঘর এর বরাদ্ধ পেয়েছি এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬০ টি ঘর তৈরী হয়েছে। তিনি বলেন, এখানকার পাহাড়ী অঞ্চল অত্যন্ত দূর্গম হওয়ার ফলে ঘর তৈরীর সরঞ্জামগুলো সঠিক সময়ে পৌছানো অনেকটা চ্যালেঞ্জিং ছিল । এরপরেও আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সহযোগিতায় এ কাজগুলো সম্পন্ন করতে পেরেছি।

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, রাঙামাটিতে ৭৩৬ পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে আপাতত ২৬৮ পরিবার ঘরপাচ্ছেন । আগামী ২৩ জানুয়ারী সকালে উপকারভোগী পরিবারগুলোর মাঝে ঘরের চাবি হস্থান্তর করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক-রাঙামাটি, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

0Shares