২৩৮ মামলা কাঁধে নিয়ে ভোটের মাঠে বিএনপির ৩৪ প্রার্থী


আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির ৩৪ প্রার্থী ২৩৮ মামলা কাঁধে নিয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।  ভাংচুর, সহিংসতা, হত্যাসহ নানা মামলা মাথায় নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির এসব প্রার্থীরা।  সেই তালিকায় মেয়র প্রার্থী নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের পাশাপাশি রয়েছেন ৫ নারী ও ২৮ সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী। এই তিন পদে বিএনপির ৩৪ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মোট মামলা রয়েছে ২৩৮টি।

এ প্রসঙ্গে নগর বিএনপির সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সবকয়টি মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার কোনও ভিত্তি নেই। শুধুমাত্র সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হওয়াতেই এতো মামলার আসামি হতে হয়েছে। এরপরও আমিসহ নেতাকর্মীরা আদালতে লড়ছেন মামলাগুলোর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, শুধু বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন একার বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে ৪৮টি। অন্য ৩৩ কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে ১৯০টি। সাধারণ পুরুষ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ১৭৬টি আর সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে।

এদিকে প্রার্থীরা এসব মামলার তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় দিলেও নগরের ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন ভোটার জানে না তাদের আগামীর জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কতটি মামলা রয়েছে।  ‘সুজন’ চট্টগ্রামের সম্পাদক আকতার কবির চৌধুরী বলছেন, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করলে ভোটারদের আগামীর জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে সুবিধা হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকেই ভূমিকা রাখতে হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের নামেই শুধু মামলা আছে ৪৮টি। এরমধ্যে দুটি মামলা স্থগিত, তদন্তাধীন দুটি। বাকি ৪৪ মামলায় বিচার চলছে ডা. শাহাদাতের। অন্যদিকে নির্বাচনে বিএনপির ৩৩ কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে ১৯০টি মামলা। সাধারণ পুরুষ ওয়ার্ডের  কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ১৭৬টি আর সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের বিভিন্ন ধারায় এসব মামলা হয়েছে।

হলফনামায় দেয়া তথ্যানুযায়ী, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আব্দুল হালিম প্রকাশ শাহ আলম একটি খুনের মামলার আসামি। খুনের এ মামলাটিসহ তার বিরুদ্ধে ২৭ টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

জানা গেছে, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. মাহবুবুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ৮টি, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. ইসকান্দার মির্জার নামে ৭টি, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আব্দুস সাত্তার সেলিমের ১৮টি মামলা (দণ্ডবিধি, বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলা) আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ১৩টি, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. হারুনের বিরুদ্ধে ১৫টি, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হানিফ সওদাগরের বিরুদ্ধে ৮টি, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সরফরাজ কাদেরের ১৫টি মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনেই বিভিন্ন ধারায় এসব মামলা করেছিল পুলিশ।

এছাড়া ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. নুরুল আবছারের ৬টি, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে মো. হারুনের ১টি, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ওসমানের ৬টি , ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইসমাইলের ৩টি, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সাদেকুর রহমানের ১টি, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. দিদারুর রহমানের ৪টি , ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিবুর রহমানের ৩টি, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের এসএম জামাল উদ্দিন জসিমের ৩টি, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আবুল হাশেমের ৫টি, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ মো. চৌধুরীর ২টি, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের এসএম ফরিদুল আলমের ৩টি, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মহসীনের ৩টি, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আব্দুল মালেকের ১টি, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইয়াছিন চৌধুরীর ৫টি, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের  চৌধুরী সায়েফুদ্দিন রাশেদ সিদ্দীকীর ৩টি, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের  শামসুল আলমের ৩টি, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের  মো. রফিক উদ্দিন চৌধুরীর ৫টি, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাসান চৌধুরী ৩টি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের  মো. হাসান লিটনের ৩টি ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের  প্রার্থী মো. ইয়াকুব চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩টি মামলা তদন্তাধীন ও বিচারাধীন রয়েছে।

এদিকে সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ডের ৫টি ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও ১৪টি মামলা রয়েছে। ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের  প্রার্থী জিন্নাতুন নেছা জিনুর বিরুদ্ধে ৩টি মামলা বিচারাধীন, ৯, ১০ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সকিনা বেগমের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা, ১৪, ১৫ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মনোয়ারা বেগম মনির বিরুদ্ধে ২টি, ২২, ৩০ ও ৩১ ওয়ার্ডের আরজুন নাহার মান্নার বিরুদ্ধে ৩টি বিচারাধীন, ২৭, ৩৭ ও ৩৮ ওয়ার্ডে সাহিদা খানমের বিরুদ্ধে ২টি মামলার তদন্ত চলছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক চট্টগ্রামের সম্পাদক আইনজীবী আকতার কবির চৌধুরী বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এসব বেমানান। এখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।  প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করলে ভোটারদের আগামীর জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে সুবিধা হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকেই ভূমিকা রাখতে হবে। না হয় বিভিন্ন মামলার আসামিরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়ে যাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফোকাস চট্টগ্রাম ডটকম

0Shares